Belpahari Jhargram
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি অঞ্চলে একটি ছোট্ট কিন্তু মুগ্ধকর স্থান আছে—ঢাঙ্গিকুসুম জলপ্রপাত। শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা আর ধোঁয়াশার মাঝ থেকে যদি আপনি একটুখানি প্রশান্তি খুঁজতে চান, তবে এই ঝর্ণা আপনার জন্য স্বর্গসদৃশ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। পাহাড়ি পথে হেঁটে আসার সময় চারপাশে চোখে পড়ে ঘন সবুজ বন, যেখানে সল, পিয়াল, কেঁদু আর সিমুল গাছ যেন একে অপরের সঙ্গে গোপনে গল্প করছে।

ঝর্ণার পানি পাহাড়ি পাথরের উপর দিয়ে নিচে নেমে আসার সময় যে শব্দ সৃষ্টি হয়, তা কেবল চোখে দেখা যায় না, কানে শোনার মতো এক মধুর সুর। বর্ষাকালে পানি প্রবাহ অনেক বেশি হয়, আর সেই সময় ঝর্ণার রূপ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শীতে গেলে পরিবেশ হয় শান্ত, হাওয়া কিঞ্চিৎ ঠাণ্ডা আর বাতাসে মাটির সুমধুর গন্ধ মিশে থাকে।

ঝর্ণার পথ বেঁকে বেঁকে চলে। হেঁটে আসার সময় মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। স্থানীয়রা এটিকে ‘ডুংরি’ নামেও চেনে। পথিকরা প্রায়ই কয়েক মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে পানি পড়ার শব্দ শুনতে, ঝর্ণার শীতল স্পর্শ অনুভব করতে থামে। পাশের কঙ্করাজহোর বনাঞ্চল আর ঝিলিমিলি লেক ভ্রমণকে আরও সম্পূর্ণ করে, যেখানে পুরোদিন কাটানো যায় প্রকৃতির কোলে বসে, পাখির ডাক শুনে, ছোট ছোট প্রাণীদের খেলা দেখে।

বেলপাহাড়ি শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ঢাঙ্গিকুসুম ঝর্ণা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ পথের মধ্য দিয়ে পৌঁছাতে হয়। তবে পথের ক্লান্তি ঝর্ণার সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে একান্তের মুহূর্তে বিলীন হয়ে যায়। এখানে হোমস্টেতে থাকা যায়—ছোট্ট কটেজ, স্থানীয় খাবার, পাহাড়ি জীবনধারার স্বাদ, আর ভোরের সূর্যের আলোয় জেগে ওঠা ঝর্ণার দৃশ্য।

ঢাঙ্গিকুসুম কেবল একটি ঝর্ণা নয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সংযোগের অনুভূতি। এখানে এসে মনে হয়, সময় কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেছে। শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা, সমস্ত চিন্তা দূরে হারিয়ে গেছে। শুধুই আছে পাহাড়, বন, পানি, আর প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্য। যারা প্রকৃতির কাছে থাকতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।

যদি কখনো আপনি শান্তি, প্রাকৃতিক রোমাঞ্চ, এবং পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি খুঁজে পেতে চান, ঢাঙ্গিকুসুম জলপ্রপাত সেই জায়গা। প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি ঝর্ণার ঢেউয়ে আপনি পাবেন এক অদ্ভুত আনন্দ, যা শহরের জীবন কখনো দিতে পারে না।


Leave a Reply